হারারে: আজ ছিল ভারত বনাম জিম্বাবুয়ে র মধ্যে দ্বিতীয় টি টোয়েন্টি ম্যাচ । প্রথম টি টোয়েন্টি তে শোচনীয় পরাজয় এর পরে ইন্ডিয়ান বাটার দের পড়তে হয়েছিল প্রশ্নের মুখে। জিম্বাবুয়ে এবারে বিশ্বকাপ নিজেদের বাছাই করতে ব্যার্থ হয়। অপর দিকে ভারত বিশ্ব জয়ী রূপে নিজেদের মেলে ধরেছে। যদিও ভারতীয় মূল দল অংশ গ্রহণ করেনি এই সিরিজ এ।
তবে দ্বিতীয় দিনে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর ভারতীয় ব্যাটসম্যান রা দিয়েছে তাদের ব্যাট দিয়ে। ক্যাপ্টেন গিল বেশিক্ষণ ক্রিজে না থাকলেও অভিষেক ও ঋতুরাজ এর মধ্যে ধীরে ধীরে পার্টনার শিপ গড়ে ওঠে ।প্রথম দিকে ঋতুর ব্যাটিং খুবই ধীরে সুস্থে শুরু হয়েছিল প্রথম ১৪ থেকে ১৫ বল তেমন ব্যাট এ বল এ হচ্ছিল না কিন্তু অপর দিকে অভিষেক শর্মা প্রথম থেকেই মেরে খেলছিলেন যেই ফ্রম টা আইপিএল এ বজায় রেখেছিলেন তেমনই রূপে দেখা গেলো আজকে।
ঋতুরাজ এর শুরু ধীরে হলেও স্ট্রাইক রোটেট করতে থাকে অভিষেক এর সাথে। পাওয়ার প্লে তে মাত্র ৩৬ রান করে ভারত কিন্তু মাঝের ওভার এ অভিষেক এর ৪৭ বল এ ১০০ রান এর উপর ভর করে ভারত এর রান পৌঁছায় ১৫০ এর কাছে। অভিষেক মারেন ৭টা চার ও ৮ টা ছক্কা ।ঋতুর স্লো ইনিংস ও যথেষ্ট গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে আজ। অন্য এক ঋতুরাজ কে দেখা গিয়েছে ব্যাটিং এর সময়। ফ্রানচাইজি ক্রিকেটে দেখা যায় প্রথমে থেকে মেরেই খেলছেন তবে আজকে এক দিক থেকে ইনিংস টাকে সামলেছেন এই তরুন ক্রিকেটটার। প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে জিম্বাবুয়ে র ফিল্ডিং মিসটেক ছিলো অনেক । অভিষেক ও ঋতুর ক্যাচ ছেড়ে দেয়ার পরে আর পিছন ঘুরে তাকাতে হয়নি ভারত কে। অভিষেক এর আউট হওয়ার পরে আসে রিঙ্কু তিনিও দ্রুত গতিতে রান বানাতে থাকে ।
রিঙ্কু করে ২২বল এ ৪৮ রান এর একটা দারুন ক্যামিও ইনিংস খেলে দল এর স্কোর পৌঁছে দেই ২৩৪এর স্কোর এ । রিঙ্কু এই রান করতে ২১৮এর স্ট্রাইক রেট নিয়ে 2 টো চার ও ৫ টি ছক্কা হাঁকান।ঋতুরাজ করেন ৪৭ বল এ ৭৭রান ১১টি ৪ও ১টি ছক্কা দিয়ে। শেষের দিকে ১৫ ওভার এর পরে ঋতু ও রিংকুর এর মধ্যে ৫০ রান এর উপরের পার্টনারশীপ বিল্ড হয়। রিঙ্কু সামান্যর জন্য নিজের হাফ সেঞ্চুরিটি মিস করে।
অভিষেক, রিঙ্কু ও ঋতুর মধ্যে কার পার্টনারশিপ এর কারনে ভারত নিজেদের টি টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে র দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের মাইলস্টোন কে স্পর্শ করে। হারারে স্পটস ক্লাব ক্রিকেট গ্রাউন্ড এর সর্বোচ্চ স্কোর টি অর্জন করে ভারতীয় দল নতুন রেকর্ড গড়ে।
বোলিং করতে এসে মুকেশ কুমার ও আবেশ খানের দারুন বোলিং এ প্রথম ৬ ওভার এ ৪ উইকেট পড়ে যায় জিম্বাবুয়ের । বেনেট শুরু ভাল করলেও বেশিক্ষণ থাকতে পারেনি ক্রিজে। অভিষেক এর ওভার এ ১৯ রান করে ভারতীয় বলার দের কে চিন্তার মুখে ফেলে দেই তার ছোট্ট ইনিংস। তবে বাকি সব ব্যাটসম্যানররা আজ সবাই ব্যার্থ ক্যাপ্টেন রাজা ফিরে যান আবেশ এর বোল এ মাত্র ৪রান এ। মধ্বেরে একটু লড়াই করে ৩৯বল এ ৪৩ রান করে তবে তার লড়াই কাজে আসেনি ততক্ষণ পূর জিম্বাবোয়ে ব্যাটিং প্যাভিলিয়ন ফিরে গিয়েছে।
মুকেশ কুমার ২৬ রান দিয়ে নেই ২ উইকেট, আবেশ খান ১৫রান দিয়ে নেই ৩ উইকেট, রবি বিস্ময় নেই ২ উইকেট ও সুন্দর পাই ১ উইকেট। বোলাররা প্রথম দিনের মতোই আজও দারুন পারফরম্যান্স দিয়ে ১৮.৪ ওভার এ ১৩৪ রান এ জিম্বাবুয়েকে অল উইকেট করে দেয়। বেশ কিছু মিস মিস ফিল্ডিং হয় ভারতীয় ফিল্ডারদের দের দ্বারা।
প্রথম দিনে পরাজয় এর পরে পুরো ভারতীয় ক্রিকেট দল চ্যাম্পিয়ন দের মতো কামব্যাক করেছে, ফিল্ডিং ছাড়া সব জায়গায় একছত্র আধিপত্য দেখিয়ে মাচ নিজেদের নামে করেছে।