ভারতীয় ক্রিকেট দলের নয়া কোচ হতে চলেছেন গৌতম গম্ভীর। রাহুল দ্রাবিড়ের ছেড়ে যাওয়া সিংহাসনে তিনিই বসবেন। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিসিসিআই সচিব জয় শাহ সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল এক্স-য়ে এই কথা ঘোষণা করেছেন। প্রসঙ্গত, টিম ইন্ডিয়াকে টি-২০ বিশ্বকাপ জেতানোর পরই কোচের পদ থেকে সরে এসেছেন রাহুল দ্রাবিড়।
ইতিপূর্বে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে জুলাই মাসে টিম ইন্ডিয়ার নতুন কোচ নিয়োগ করা হবে। প্রায় সাড়ে তিন বছরের জন্য অর্থাৎ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচ পদে বহাল থাকবেন গৌতম গম্ভীর। তিনটে ফরম্যাটেই টিম ইন্ডিয়াকে তিনি কোচিং করাবেন।
এরই সঙ্গে বিসিসিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী, যিনি ভারতীয় দলের হেড কোচ থাকবেন, তিনি আইপিএলের কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত হবে। আর সেই কারণে মেন্টর হিসেবে প্রথম মরশুমেই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) আইপিএল চ্যাম্পিয়ন করার পরে সেই পদ ছাড়তে হল গম্ভীরকে। ২০২৪ সালে মেন্টর হিসেবে কেকেআরে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। আর প্রথমবারেই চ্যাম্পিয়ন করেন।
মধ্যিখানে শোনা যাচ্ছিল গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে নাকি ভারতীয় কোচ হওয়ার লড়াই এ WV.RAMAN. এবং তারপর শোনা গেছে তার সঙ্গে নাকি কথা হয়ে যাওয়ার পরেও ভারতীয় হেড কোচের পদের বেতন নিয়ে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি হয়। তবে এইসব জটিলতা এখন অতীত অবশেষে গৌতম গম্ভীর এর হাতেই টিন ফরমেটেরই দায়িত্ব দিল বিসিসিআই।
কিন্তু ভুললে চলবে না তিনি কিন্তু কোচ পদে নিযুক্ত হওয়ার আগে বোর্ড কে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত দিয়েছিলেন। সেগুলি হল-
১) ভারতীয় ক্রিকেট দলের ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ। তাঁর কাজে কেউ হস্তক্ষেপ করবেন না।
২) নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী সাপোর্ট স্টাফ বেছে নিতে পারবেন গম্ভীর। এই বিষয়েও কোচের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেওয়া হবে সবার আগে।
৩) আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫ পর্যন্ত সিনিয়র খেলোয়াড়দের জন্য শেষ সুযোগ হবে। তাঁদের পারফরম্য়ান্সের ওপর তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। যদি খারাপ পারফরম্য়ান্স হয়, সেক্ষেত্রে সেখানেই তাঁদের ইতি টানতে হবে। নিশ্চিতভাবে বিরাট, রোহিত, জাডেজার দিকেই যে নিশানা গম্ভীরের, তা বোঝাই যাচ্ছে। ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পারফরম্য়ন্সের ওপর নির্ভর করে ২০২৭ বিশ্বকাপের দল ও তার রোডম্য়াপ তৈরি করা হবে। তাই গম্ভীর পর্যাপ্ত সময় নিয়েই দল তৈরি করতে চান।
৪) প্রতিটি ফরম্যাট এ আলাদা আলাদা দল। প্রয়োজনে আলাদা আলাদা অধিনায়ক। সেক্ষেত্রে অন্তত টেস্ট ক্রিকেটের আলাদা ও সীমিত ওভারের ফর্ম্য়াটের জন্য আলাদা অধিনায়ক রাখা যেতে পারে। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট কে প্রাধান্য দেওয়া। টেস্টেও নতুন খেলােয়াড়দের সুযোগ দিতে চান গম্ভীর।
৫) ২০২৭ ওয়ান ডে বিশ্বকাপের রোডম্য়াপ তৈরি করা হবে গম্ভীরের কোচ হিসেবে পথ চলার শুরু থেকেই। খেলোয়াড়দের সঙ্গে ব্য়ক্তিগত সম্পর্ক, ভাবনা চিন্তার আদানপ্রদানও যত ভাল হবে, ততই দলের জন্য ভাল। সেই মতই প্লেয়ারদের গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এবার দেখার এইসব শর্ত কতটা মানে বোর্ড? পরবর্তীকালে কি বোর্ডের সঙ্গে ভারতীয় হেড কোচের কোনরকম সংবাদ সৃষ্টি হতে পারে যেমনটি হয়েছিল অনিল কুম্বলে এর সঙ্গে? সেই সবই সময়ের অপেক্ষা। তবে এই মুহূর্তে সবরকম জটিলতা কাটিয়ে ভারতীয় টিমের দায়িত্ব সামলাবেন গৌতম গম্ভীর।