কলকাতা:- বহুপ্রতীক্ষিত এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে কলকাতা ফুটবল লিগ (সিএফএল) -এর টপ ডিভিশনে। প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার ডিভিশনে মুখোমুখি হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী ইস্টবেঙ্গল এফসি ও মেজারার্স ক্লাব। দুই দলের মধ্যে শেষবার দেখা হয়েছিল ১৯২২ সালে, দ্বিতীয় বিভাগে। সেই ঐতিহাসিক দ্বৈরথে দুইবারই জয়ী হয়েছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। প্রায় শতবর্ষ পরে ফের একবার দুই দল মাঠে নামছে, এবার অবশ্য অনেক বড় মঞ্চে।
সিএফএল-এর শীর্ষ বিভাগে এই প্রথমবার এই দুই দলের লড়াই ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চর্চাশেষবার এই দুই দল একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল ১৯২২ সালে, তখন কলকাতা লিগের দ্বিতীয় বিভাগে। সেই দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এরপর দীর্ঘ ১০২ বছর দুই দল আর একে অপরের মুখোমুখি হয়নি—যেন ইতিহাস হারিয়ে গিয়েছিল বিস্মৃতির অতলে। এবার সময়ের আবর্তনে আবার সেই পুরনো প্রতিপক্ষ ফিরছে নতুন মঞ্চে, নতুন রূপে।
এত দীর্ঘ সময় ধরে একে অপরের মুখোমুখি না হওয়া দুই দলের ফের দেখা হওয়াটা নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তবে এবার মঞ্চ অনেক বড়—CFL-এর শীর্ষ স্তর।
ইস্টবেঙ্গল এফসি বরাবরই কলকাতা লিগের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় ক্লাব। তাদের নামের পাশে রয়েছে বহু শিরোপা, অসংখ্য কিংবদন্তি ফুটবলারের স্মৃতি। লাল-হলুদের কাছে এই ম্যাচ তাদের সম্মান রক্ষা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লড়াই। অন্যদিকে, মেজারার্স ক্লাব তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও তাদের লড়াই, পরিশ্রম ও প্রতিভার জোরেই আজ তারা উঠেছে এই পর্যায়ে। প্রথমবার টপ ডিভিশনে খেলার সুযোগ পাওয়াই যেমন বড় প্রাপ্তি, তেমনি ইস্টবেঙ্গলের মতো এক ঐতিহ্যবাহী দলের মুখোমুখি হওয়া তাদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ এবং গর্বের বিষয়।
এই ম্যাচ শুধুমাত্র দুটি দলের মধ্যকার পয়েন্টের লড়াই নয়—এটি সময়ের সেতুবন্ধন, অতীত ও বর্তমানের মিলন। একদিকে শতবর্ষের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে নবাগত স্পর্ধা—এই বৈপরীত্যেই রয়েছে ম্যাচটির রোমাঞ্চ। দুই দলের খেলোয়াড়রাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন দারুণ মনোযোগ ও উদ্দীপনায়।ফুটবল মানেই কলকাতার আবেগ, আর এই ম্যাচ সেই আবেগকে ছুঁয়ে যাবে ইতিহাসের ছায়ায়। শতবর্ষ পরে এক পুরনো লড়াইয়ের নব রূপ দেখার জন্য প্রস্তুত শহর কলকাতা।







