তিনি রহস্য স্পিনার–বরুণ চক্রবর্তী। গত দু’বছর আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে চমৎকার বোলিং করে টেকনিকের পরিচয় দিয়ে ভারতের টি‑টোয়েন্টি ও ওয়ান‑ডে দলে ডাক পেয়েছেন। চলতি বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছেন তিনি। কিন্তু ব্যাট হাতে তাকে দেখা মায়া—তেমন দৃশ্য বিরল। এই বরুণই ব্যাট নিয়ে দলের ভাগ্য বদলে দিলেন। দলের অধিনায়ক রবিচন্দ্রন অশ্বিন যুক্ত ছিলেন নেয়া-দাগের আবেদনে, আবেগের ঝাঁকে ঠেকাতে না পেরে ডাগআউটে চোখে পানি নিয়ে বসে পড়েন।
তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগে বরুণ খেলেন দিন্ডিগুল ড্রাগনসে, অধিনায়ক ছিলেন অশ্বিন নিজেই। সালেম স্পার্টান্সের বিপক্ষে ১৮৯ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে, শেষ ওভারে দরকার ছিল ১১ রান। শুরুতে চলছিল ধারাবাহিক উইকেট পতন, দুই উইকেটও হারাচ্ছিল ড্রাগনস। ইন্টারভেনে অধিনায়ক অশ্বিন বল হাতে ফর্মে ছিলেন— চার ওভারে করেছেন ৩ উইকেট, ২২ রান খরচ, এরপর ব্যাট হাতে ১৪ বলেই তুলে নিয়েছেন ৩৫ রান ।
শেষ ওভারে এম পইয়ামোঝি ভালো বল করছিলেন: প্রথম চার বলেই মাত্র ৩ রান দিয়েছেন ও একটা উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু পরের বলটি ফেলেছেন (নো বল), ফলে ব্রেক পেয়েছেন বরুণকে—ফ্রি হিট। বরুণ প্রথম বলেই সোজা ছক্কা মারেন, ঢেলন্ত আগের খেলার উত্তেজনাময়। আগের বলেই মাফিক, লং‑অন ও লং‑অফের ফাঁকা মাঠ দেখে আনতে দাম দিয়েই ছক্কা। শেষ বলে দরকার ছিল মাত্র একটি রান। ৩০ গজের ভেতরের সব ফিল্ডার সরানো, বরুণের মাথায় স্ট্র্যাটেজি—‘টিপ অ্যান্ড চালিয়ে দাও’– হল মিড‑অফের উপর দিয়ে ফল — চারে। ম্যাচ পেল দিন্ডিগুল ড্রাগনস । দলে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে, মাঠে নেমে সবাই বরুণকে ঘিরে নাচতে থাকে; কিন্তু ডাগআউটে বসে অশ্বিন আবেগ সামলাতে না পেরে দু’হাত মুখে দিয়ে ফেলেন। পরে মাঠে নেমে আদর করেন বরুণকে ।







